• সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

কমেডি কাপল লাভ

sodeshbarta24 / ৪৪ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাশেদুল ইসলাম

আমি: আমার নাম অনিক। আজকে আমি আপনাদের অসাধারণ একটি ট্রেজি-কমেডি বলতে চলেছি। আমি কল্পনাও করতে পারিনি, আমার সাথে এমন কিছু ঘটবে। তবে এমন কিছু ঘটার কারণেই, আমার ভালোবাসা আজ পূর্ণতা পেয়েছে। জীবন হয়েছে সার্থক। তো চলুন, সেই কাহিনীটা আপনাদের শোনাই।

আমি: বাবা আমি এখন বিয়ে করবো না। আমার পক্ষে এখন বিয়ে করা সম্ভব নয়।

বাবা: কেন? 

আমি: আমি আগে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। তারপরে বিয়ে করবো।

বাবা: প্রতিষ্ঠিত তো একদিন হতেই পারবি। বিয়েটা করে নিলেই তো হয়। আমিও তো তোর মাকে বিয়ে করার পরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।

আমি: আমার পক্ষে এটা কোন মতেই সম্ভব নয়।

বাবা: তোর কোন কথা শুনবো না। আগামী মাসের 3 তারিখে আমার এক বন্ধুর মেয়ের সাথে তোর বিয়ে ঠিক করেছি। আমার বন্ধুর মেয়েকেই তোর বিয়ে করতে হবে।

আমি: (আমি খুব হতাশ হয়ে গেলাম। জলদি স্নেহাকে ফোন দিলাম। স্নেহা আমার কে হয় , আশা করি তা বুঝতেই পারছেন ।)

স্নেহা: বলো।

আমি: বাবা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে।সামনে মাসের তিন তারিখে বাবার কোনো এক বন্ধুর মেয়ের সাথে আমার বিয়ে।

স্নেহা: আমার বাবাও তো তার কোনো এক বন্ধুর ছেলের সাথে, আমাকে না জানিয়েই, আমার বিয়ে ঠিক করেছে।

আমি: সত্যি নাকি?

স্নেহা: হ্যাঁ সত্যি। আজকেই বাবা বললেন। কিন্তু তুমি মজা করছো নাতো।

আমি: আরে না, এটা মজা করার বিষয় নাকি?

স্নেহা: তাহলে এখন কি করবে? বাবা মাকে, আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি বলে দেবো?

আমি: কি করবো বুঝতে পারছি না। বিকেলে দেখা করো।

(দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে আসলো। আমরা একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করলাম।)

আমি: তোমারো অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হয়েছে। আমারো বিয়ে   ঠিক হয়েছে। বিষয়টা আমার হজম হচ্ছে না।

স্নেহা: এই বিষয়টা ভাবা বন্ধ করো। এর সমাধান নিয়ে ভাবো, নইলে আমার সন্তান তোমাকে বাবা বলার পরিবর্তে মামা বলে ডাকবে।

আমি: সেটাই তো ভাবছি। আজকে বাসায় গিয়ে আমাদের রিলেশনের বিষয়টা বাবা-মাকে বলবো। তুমিও তোমার বাবা-মাকে আমাদের রিলেশনের ব্যাপারে বলে দিও ।

স্নেহা: সে না হয় বলবো, কিন্তু বাবা-মা কী মেনে নেবে?

আমি: আগে বলেই তো দেখো। যদি মেনে না নেয়, তাহলে আমরা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করবো।

স্নেহা: আচ্ছা ঠিক আছে।

আমি: (এরপরে আমরা দুজনের বাসায় ফিরে গেলাম। বাবাকে অনেক ভয় পেতাম। তাই আমার হাঁটু কাপা শুরু হয়ে গেল, গলা শুকিয়ে গেল। কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে, আমি বাবাকে আমার ও স্নেহার রিলেশনের ব্যাপারে ভয়ে ভয়ে বললাম।)

আমি: বাবা , আমি তোমার বন্ধুর মেয়েকে বিয়ে করতে পারবোনা।

বাবা: কেন? তোর সমস্যা কোথায়? বলেছি তো বিয়ের পরেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবি।

আমি: সমস্যাটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া নিয়ে নয়।

বাবা: তাহলে, সমস্যাটা কোথায়?

আমি: আমি একজনকে ভালবাসি?

বাবা: কি! এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আমি আমার বন্ধুকে কথা দিয়েছি। তার মেয়ের সাথেই তোর বিয়ে হবে। বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে নে।

আমি: (আমি আর কিছুই বলতে পারলাম না। ইতিমধ্যেই আমি অনেক কাঁপছি। রুমে গিয়ে স্নেহাকে ফোন দিলাম। স্নেহাও নাকি তার বাবাকে সব কথা খুলে বলেছে। কিন্তু তার বাবাও তার কোন কথা শোনেনি। তিনিও নাকি তার কোনো  এক বন্ধুর  ছেলের সাথে স্নেহার বিয়ে দেবেন বলে কথা দিয়েছেন)

আমি: তাহলে এখন কি হবে?

স্নেহা: তুমি কি পুরুষ মানুষ? এখন কি করতে হবে, এটাও কি আমি বলে দেবো।?

আমি: রাগ করছো কেন? আমার মাথা কাজ করছে না।

স্নেহা: তাহলে শুয়ে শুয়ে ঘুমাও। আর এদিকে আমার বিয়ে হয়ে যাক। কালকে আমার বাবা তার বন্ধুর ছেলের সাথে দেখা করতে বলেছে।

আমি: বলো কি, কালকে আমার বাবাও তো তার বন্ধুর মেয়ের সাথে দেখা করতে বলেছে।

স্নেহা: তাহলে তো ভালোই হলো, তুমিও অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ফেলো, আমিও এদিকে  বাবার বন্ধুর ছেলেকে বিয়ে করে ফেলি।

আমি: এতো রাগ করছো কেন? আচ্ছা দেখি কি করা যায়।

(স্নেহার সাথে কথা বলার পরে, ফোনটা কেটে দিয়ে, কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি। সকালে বাবা রুমে আসলেন।)

বাবা: এইযে শাহাজাদা। তোর ঘুম হয়েছে? জলদি রেডি হয়ে নে, আমার বন্ধুর মেয়ে তোর সাথে ঠিক দশটায় সাক্ষাত করবে। এই বলে বাবা একটি রেস্টুরেন্টের ঠিকানা বললেন। আর মেয়েটির  একটি ছবি দিলেন।

আমি: ঠিক আছে, বাবা। আমি মেয়েটির সাথে সাক্ষাৎ করতে যাব। ছবি দেখা লাগবে না।

(বাবার কথা মেনে না নিয়ে কোন উপায় ছিল না । আমি প্ল্যান করেছি, বাবার বন্ধুর মেয়েটিকে সব কিছু খুলে বলবো। তাহলে আর বিয়ে করতে হবে না। তখন মেয়েটি নিজেই, বিয়ে ভেঙে দেবে। ফ্রেশ হয়ে রেস্টুরেন্টে গেলাম। গিয়ে দেখি স্নেহাও সেই রেস্টুরেন্ট এসেছে।)

আমি: তুমি এখানে কি করছো?

স্নেহা: বাবার বন্ধুর ছেলের সাথে দেখা করতে এসেছি।

আমি: নাচতে নাচতে দেখা করতে চলে আসলে? আমাকে তো, একবারো বলার প্রয়োজন মনে করলে না?

স্নেহা: তা তুমি এখানে কি করছো, শুনি?

আমি: আমিও বাবার বন্ধুর মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি।

স্নেহা: আচ্ছা, নিজেও এসেছো আরেকজনের সাথে দেখা করতে, আর এখন আমার কথা শোনাচ্ছো?

আমি:  (স্নেহা খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। কি আর করা আমি স্নেহাকে সরি বললাম। এরপর আমরাই অনেক কথা বললাম। কিন্তু আমার বাবার বন্ধুর মেয়ে কিংবা স্নেহার বাবার বন্ধুর ছেলে, দুজনের কেউ রেস্টুরেন্টে আসেনি। তাই আমরা বাসায় ফিরে গেলাম)

বাবা: কি ব্যাপার? মেয়েটিকে কেমন লাগলো?

আমি: তোমার বন্ধুর মেয়ে রেস্টুরেন্টে আসেনি?

বাবা: কীহ! এখনি আমি আমার বন্ধুর কাছে ফোন করছি।

আমি:  (বাবা তার বন্ধুর সাথে কথা বললেন। তার বন্ধুর মেয়ে নাকি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল। কিন্তু বাবার বন্ধু বললেন, আমি নাকি রেস্টুরেন্টে যাই নি!)

বাবা: তুই মিথ্যে কথা বললি কেন? তুই নিজেই রেস্টুরেন্টে যাসনি। আমার বন্ধুর মেয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল। মেয়েটি তোকে খুঁজে পায়নি। তুই কোথায় গিয়েছিলি, বল?

আমি: বাবা, আমিতো রেস্টুরেন্টেই গিয়েছিলাম। সত্যি বলছি ,আমি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলাম।

বাবা: তাহলে কি আমার বন্ধু আমাকে মিথ্যে কথা বলছে?

আমি: তা আমি কেমন করে বলবো!

বাবা: আচ্ছা, ঠিক আছে। কালকে তুই আবার মেয়েটির সাথে দেখা করতে যাবি।

আমি: ঠিক আছে, যাবো।

(পরেরদিন আবারো রেস্টুরেন্টে গেলাম মেয়েটির সাথে সাক্ষাৎ করতে। কিন্তু আজকেও স্নেহার সাথে দেখা হলো।)

স্নেহা: আজকে আবারো এখানে এসেছো কেন?

আমি: বাবা পাঠিয়েছে, মেয়েটি নাকি আজকে আসবে! কিন্তু তুমি এখানে কি করছো?

স্নেহা: বাবার বন্ধুর ছেলে, আজকে আসবে সাক্ষাৎ করতে । এটাই বাবা বললো।

আমি: তুমি কি ছেলেটির ছবি দেখেছ? কিংবা নাম কি জানো?

স্নেহা: বাবা ছবি দিয়েছিল, আমার কোন আগ্রহ ছিল না তাই দেখিনি। আর নাম ইচ্ছা করেই শুনিনি। তুমি কি মেয়েটির ছবি দেখেছো?

আমি: আমিও দেখিনি। বাবা যখন নাম বলেছিলো, তখন আমি কানে তুলো দিয়েছিলাম। তাই নামটা শোনা হয়নি।

(এরপরে আমরা দুজনেই গল্পগুজব করলাম। তারপর যে যার বাসায় ফিরে গেলাম)

আমি: তোমার বন্ধুর মেয়ে আজকেও আসেনি। আমি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসে থেকে অযথা সময় নষ্ট করলাম।

বাবা: কীহ! আজকেও মেয়েটি আসেনি। আমার বন্ধুর সাথে এখনি কথা বলছি।

আমি:  (বাবা তার বন্ধুকে ফোন দিলেন)

বাবা: তুই আমার বেস্টফ্রেন্ড, তাই তোর মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিবাহ ঠিক করেছিলাম। কিন্তু তোর মেয়ে রেস্টুরেন্টে দেখা করতে আসেনি ।

বাবার বন্ধু: মিথ্যে কথা বলবি না। আমার মেয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল। কিন্তু  তোর ছেলে দেখা করতে আসেনি।

বাবা: কিহ! আমি মিথ্যে কথা বলছি? তুই মিথ্যাবাদী। তোর মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে দেবোই না।

বাবার বন্ধু: যা যা, আমার বয়েই গেছে, তোর মতো মিথ্যাবাদীর চিটিংবাজ ছেলের সাথে, আমার বিয়ের বিয়ে দেবো না।

আমি: (যাক অবশেষে বিয়েটা ভেঙ্গে। জলদি রুমে গিয়ে স্নেহাকে ফোন দিলাম)

স্নেহা: একটি সুসংবাদ আছে।

আমি: আমিও একটি সুসংবাদ দিতে চাই।

স্নেহা: তাই নাকি! কি সুসংবাদ, বলো?

আমি: না, আগে তুমি বলো?

স্নেহা: ন্যাকামি ছেড়ে, জলদি বলো কি হয়েছে?

আমি: আমার বাবা তার বন্ধুর মেয়ের সাথে , বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। এবার তোমার সুসংবাদটা বলো।

স্নেহা: বলো কি? আমার বাবাও তো, তার বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে ভেঙে দিয়েছে।

আমি: তাহলে তো ভালোই হলো।

(হঠাৎ করে বাবা আমায় ডেকে উঠলো। স্নেহাকে বাই বলে বাবার কাছে গেলাম।)

বাবা: তুই বলেছিলি , একটা মেয়ের সাথে তোর রিলেশন আছে। মেয়েটির বাবার নাম্বার দে, আমি কথা বলবো। আমি আমার বন্ধুকে দেখিয়ে দেবো, ওর মেয়ের চেয়েও ভালো মেয়ে ও পরিবারে আমার ছেলেকে বিয়ে দিচ্ছি।

আমি: (আমিতো মনে মনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। যাক, অবশেষে স্নেহার সাথেই  বাবা আমার বিয়ে ঠিক করতে চলেছে।আমি রুমে এসে স্নেহাকে ফোন করে তার বাবার নাম্বারটা নিলাম)

আমি: বাবা এই নাও নাম্বার।

বাবা: এটা তোর গার্লফ্রেন্ডের বাবার নাম্বার?

আমি: হ্যাঁ বাবা, এটাই তো নাম্বার।

বাবা: এটাতো আমার বন্ধুর নাম্বার। তার মেয়ের সাথেই তো তোর বিয়ে ঠিক করেছিলাম।

আমি: বলো কী? তার মানে, তুমি স্নেহার সাথেই আমার বিয়ে ঠিক করেছিলে?

বাবা: আরে গাধা, স্নেহার বাবাই তো আমার বন্ধু। আর স্নেহার নাম ও ছবি তো তোকে আমি দিয়েছি। তুই দেখিস নি?

আমি: (আমি একদম আকাশ থেকে পড়লাম)

আমি: না বাবা, দেখিনি। আমি বুঝতেই পারিনি তোমার বন্ধুই হলো স্নেহার বাবা।

বাবা: গাধা কোথাকার। দেখি আমার বন্ধুকে আবার ফোন দেই।

আমি: (এই বলে বাবা স্নেহার বাবার কাছে ফোন দিল। আর আমি রুমে এসে স্নেহাকে ফোন দিয়ে সব খুলে বললাম)

স্নেহা: ও মাই গড। তার মানে তোমার বাবা আমার বাবার ফ্রেন্ড। বাবা আমাদের দেখা করানোর জন্য রেস্টুরেন্টে পাঠিয়েছিলেন!

আমি: হ্যাঁ, কিন্তু আমি ভেবেছিলাম আমার বাবার ফ্রেন্ড অন্য কেউ ‌। আর এমনটাই তুমিও ভেবেছিলে।

স্নেহা: সত্যিই, আমি এটি ভাবতেই পারছিনা, আমাদের বাবারা একে-অন্যের বন্ধু।

আমি: (এরপরে আমরা কথা শেষ করলাম। বাবা তার রুমে ডাকলেন)

আমি: আমায় ডেকেছো, বাবা?

বাবা: হ্যাঁ , তোকেই ডেকেছি। কালকে আমার বন্ধু 

তার মেয়েকে নিয়ে আমাদের বাসায় আসছে। কালকে তোদের এনগেজমেন্ট হবে।

আমি: (আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। কল্পনাও করতে পারিনি এভাবে আমাদের ভালোবাসা সার্থকতা পাবে‌। অবশেষে আমাদের এনগেজমেন্ট হলো। সামনের মাসের 3 তারিখেই আমাদের বিয়ে।

সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন


এ জাতীয় আরো খবর..

করোনাভাইরাস