• মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০১:০৮ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

প্রহসনের বিচারে বন্ধী সাঈদীকে মুক্তি দিন

sodeshbarta24 / ২২৬ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০

এডভোকেট মনির সুমনঃ বছর দুয়েক আগে ৬৫-৭০ বছরের ক্লীন সেভ করা এক সিনিয়র ল’ইয়ার ঢাকা জজকোর্ট থেকে বাসায় ফেরাপ্রহসনের বিচারে বন্ধী সাঈদীকে মুক্তি দিনথে সুপ্রভাত গাড়িতে কথোপকথনে সাঈদী প্রসঙ্গে বললেন- সাঈদী হুজুরের মামলায় স্বাক্ষী দিছে আমার এক মামাতো ভাই(তিনি নাম বলেছিলেন,এ মুহূর্তে নামটি মনে আসছেনা)।তারে কইলাম কিরে হারামী যুদ্ধের সময় তুই আমার সাথে হোস্টেল ম্যাসে ছিলি।কোত্থেকে হুজুরের লুটপাট আর ধর্ষণ দেখলি?সে আমারে বললো ভাইরে বাসায় সবাই আমার উপর খ্যাপা,তুইও আবার এভাবে বলা শুরু করলি।আউয়াল সাব(এমপি) বলছে কিছু সুযোগ সুবিধা করে দিবে তাই সাক্ষ্য দিলাম।পলিটিক্স করি উনার কথার বাইরে যাই ক্যামতে ভাই?

সিনিয়র ঐ আইনজীবি আরো বললেন- “আমার বিয়ে হইছে ৭০ সালে।একটা নাক ফুল আর এক জোড়া ছোট কান ফুলের জন্য বরিশাল জেলা শহরে আসতে হইছে।পিরোজপুর ছিল মহকুমা।সেখানে এই পরিমান সোনা সে সময়ে পাওয়া যায়নাই।আর পারের হাটতো ছিল বিকেল বেলায় টুকরি-টাকরি নিয়ে বসা সাপ্তাহিক একটা হাট।অথচ সাঈদী হুজুর নাকি ঐ বাজার হতে ৫ কেজি সোনা লুটপাট করছে।কি জগন্য মিথ্যাচার! আর কারো কথা আমি জানিনা।পিরোজপুরের ছেলে হিসেবে আমি বলতে পারি সাঈদী হুজুরের বিরুদ্ধে সব মিথ্যাচার এবং জুলুম করা হয়েছে।”

তাছাড়া মামলার ভিকটিম বিশাবালির ভাই সুখরঞ্জনবালি সাঈদীর স্বপক্ষে মিডিয়ায় স্ট্রেটমেন্ট অতঃপর আদালত চত্বর হতে গুম হওয়া, আরেক ভিকটিম ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রীর দায়ের করা ৭২ সালের হত্যা মামলায় সাঈদীর নাম না থাকা,সাঈদীর রায় পূর্ব বিচারপতির স্কাইপি স্ক্যান্ডাল ইত্যাদি বিষয় বিচারের স্বচ্ছতাকে ম্লান করেছে অনেক আগেই।

আদালত চায় অভিযোগের স্বপক্ষে সাক্ষ্য এবং প্রমাণ।রাষ্ট্রপক্ষ তথা প্রসিকিউশন যে ভাবেই হোক সে সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করেছে।যদিও সেইফ হোমে মাসের পর মাস রেখে ভুয়া সাক্ষীদের মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানে প্রশিক্ষণের তথ্য আসামী পক্ষ আদালতে উপস্থাপন করেছিল।

যাহোক, আমাদের ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনে Heresy Evidence বা শ্রুত সাক্ষ্য গ্রহনযোগ্য না হলেও ৭৩-এ গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে তা প্রাসঙ্গিক। তাছাড়া ছোটখাটো লোকাল পত্রিকার কাটিং,যুদ্ধ পরবর্তীতে লেখা পুস্তিকার রেফারেন্সও এ আইনে সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক। এরকম অসংখ্য ত্রুটিযুক্ত আইন দিয়ে বিচারকাজ করতে হয়েছে মাননীয় বিচারকদের।

সবশেষে ছোট্ট একটি ঐতিহাসিক গল্প বলে আমি ইতি টানবো–

জৈনক ইহুদী কর্তৃক খলিফা আলী(রাঃ) এর জুব্বা চুরি হবার পর তিনি কাজীর কাছে বিচার দিলেন।কাজী(বিচারক) বাদী খলিফা আলী(রা:)- কে জুব্বার মালিকানা সংক্রান্ত সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিলে খলিফা সাক্ষী উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়।কাজী দখলিস্বত্বে ইহুদীকে মালিকানা সাব্যস্ত করে রায় দিলেন।অতঃপর ইহুদী একত্ববাদী খোদার অনুসারী বাদশাহ ও বিচারকের ন্যায়বিচার ও ইনসাফে মুগ্ধ হয়ে নিজের চুরির ঘটনা স্বীকার করে শিরক মুক্ত খোদার রাহে আপনাকে সোপর্দ করে।

উপরোক্ত ঘটনা অবতারণার উদ্দেশ্য হলো-কাজী সাহেব ভালো করেই জানতেন খলিফাতুল মুসলেমীন মিথ্যা বলেন না।কিন্তু আদালত বিচার করে সাক্ষ্যের ভিত্তিতে।যেকারণে তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সাক্ষ্যহীন বাদশাহর বিপক্ষে রায় দিলেন।বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় এরকম নজির কল্পনাতীত হলেও সাক্ষীর গুরুত্ব অদ্যাবধি রয়েছে।তাই আমি যুদ্ধাপরাধ বা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমকে প্রহসনের বিচার না বলে মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পক্ষের নিন্দিত বিজয় বলতে পছন্দ করি।

সবিশেষ কথা হলো-বেগম জিয়া আদালত কর্তৃক চূড়ান্ত সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিচারিক আদালতে বার বার জামীন চেয়ে জামীন পাননি।ক’দিন আগে নির্বাহী আদেশে তাঁর সাজা ছয়মাসের জন্য স্থগিত করে তাঁকে অস্থায়ী সময়ের জন্য মুক্তি দেয়া হয়।বিশ্ববরেণ্য মুফাসসিরে কুরআন,বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব আল্লামা সাঈদীকেও একইওভাবে ফৌজধারী কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা বলে সরকার সাময়িক সময়ের জন্য হলেও দেশ ও বিশ্বের এই ক্রান্তিকালে মুক্তি দিবেন বলে আশা করি।

মনির হোসাইন সুমন
আইনজীবী
জজকোর্ট,ঢাকা
০১৭২৭ ৩০২০৪২
e-mail:sumonrlbd@gmail.com


এ জাতীয় আরো খবর..

করোনাভাইরাস