• রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

যশোর চৌগাছায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

sodeshbarta24 / ৩ বার পঠিত
আপডেট : সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

যশোরের চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের ধানক্ষেত থেকে পিকুল হোসেন নামে এক কৃষকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহটি ধানক্ষেতেই ফেলে রেখে যায়।

নিহত পিকুল হোসেন (৩২) উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনর ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা একই গ্রামের শরিফুল (২১), আরিফুল (১৬) ও সাদ্দামের (২৫) নাম উল্লেখ করে, সেই সঙ্গে অজ্ঞাত ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নেয় পুলিশ। আজ সোমবার সকালে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব।

নিহতের পিতা সাখাওয়াত হোসেন জানান, রবিবার দুপুরের খাবার খেয়ে তার ছেলে বাড়ি থেকে ধানের ক্ষেতে যান। এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় তাকে খুঁজাখুজি শুরু করে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে রাত দশটার দিকে নিজেদের ধানক্ষেতেই বিচালি দিয়ে ঢাকা পিকুলের মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমার ছেলেকে শরিফুল, আরিফুল ও সাদ্দাম এরাই মেরেছে। তাদের ছাগল আমাদের ক্ষেতের ধান খাওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন রবিবার দুপুরেও তাদের সাথে এ নিয়ে ঝগড়াঝাটি হয়। এর আগে কয়েকদিন এ নিয়ে বিবাদ হয়েছিল।’

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি আরো জানান এ ঘটনায় নিহতের পিতা হত্যা মামলা করেছেন। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় রাতেই শরিফুল ও আরিফুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাদ্দাম নামে অপর আসামি পালাতক রয়েছে। তাকে গেপ্তরের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওসি রিফাত খান রাজীব স্থানীয় ব্যক্তি, নিহতের পরিবার ও লিখিত এজহারের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেন গ্রেপ্তার আরিফুল ও শরিফুলের মায়ের বেশকটি ছাগল রয়েছে। সেই ছাগলে নিহত পিকুলদের ক্ষেতের ফসল নষ্ট করা নিয়ে তাদের সাথে বিবাদ ছিল। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের ঝগড়াঝাটি হয়। রবিবার দুপুরেও এ বিষয় নিয়ে নিহতের সাথে ওই পরিবারের কথাকাটাকাটি হয়। এরপর নিহত পিকুল বাড়ি এসে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকাল তিনটার দিকে আবারো মাঠে ধান কাটতে যায়। এরপর আর সে বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যায়ও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খুঁজাখুজি করতে করতে ধানক্ষেতে গিয়ে ধানগাছ দিয়ে ঢাকা ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।


এ জাতীয় আরো খবর..

করোনাভাইরাস